হবিগঞ্জে ভেসে গেছে ৪২ কোটি টাকার মাছ

দৈনিক জনকণ্ঠ
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২২
হবিগঞ্জে ভেসে গেছে ৪২ কোটি টাকার মাছ

ধলাই ডেস্ক: হবিগঞ্জের ৭ উপজেলায় ৮ হাজার পুকুর, ফিশারি ও মাছের খামার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৮৫৩ জন মৎস্য চাষি। ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকার। এমতাবস্থায় মাথায় হাত পড়েছে মাছ চাষিদের। এদের মধ্যে অনেকেই ঋণ নিয়ে ফিশারিতে মাছ চাষ করেন। বন্যার পানিতে ফিশারির মাছ ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। ঋণ পরিশোধ নিয়ে এখন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক মৎস্য চাষি।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে থাকা ৭ হাজার ৯০১টি পুকুর ও  ফিশারি মাছ চাষ করেন ৫ হাজার ৮৫৩ জন মৎস চাষি। কিন্তু আষাঢ়ের বন্যায় জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, বাহুবল, নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ উপজেলার ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে থাকা ৭ হাজার ৯০১টি পুকুর, ফিশারি ও খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফলে ৫ হাজার ৮৫৩ জন খামার মালিকের ৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, বন্যায় কবলিত হয়ে অনেক পুকুর, ফিশারি ও খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক মৎস্য চাষি। ঋণ নিয়ে অনেকেই ফিশারি ও পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। বন্যার পানিতে এসব মাছের পোনা ভেসে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ করা নিয়েও এখন দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। তাছাড়া সরকারিভাবে মৎস্য খামারের পূর্ণবাসন না থাকায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চরম এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান মৎস্য চাষিরা।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের মাছ চাষি মো. রমজান আলী জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে থাকা তার ১৩০ শতক ফিশারিতে তিনি ৩ লাখ টাকার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ফিশারির মাছ ভেসে যাওয়ায় তিনি ৬ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে তিনি এখন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।

একই উপজেলার উত্তর সুলতানশী গ্রামের শাহ আলম জানান, গুঙ্গিয়াজুরি হাওড়ে ১৩০, ১২০ ও ১১০ শতক জায়গার ৩টি ফিশারিতে ৫ লাখ টাকার মাছ চাষ করেন তিনি। বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় তার প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই অবস্থায় বানিয়াচং উপজেলার মৎস্য চাষি আল আমিন সুয়েব ঠাকুরের। তিনি জানান, তাদের প্রায় ৫ ক্ষের জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা পুকুরের সব মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। আর এতে করে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন।

হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় কবলিত হয়ে জেলায় ৫ হাজার ৮৫৩ জন মৎস্য চাষির ৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। সব মৎস্য খামারিদের ক্ষতি পরিমাণ তালিকা তৈরি করে মৎস্য অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে’।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে খামারিদের পূর্ণবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বন্যায় কবলিত সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পূর্নবাসনের বিষয়ে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।’

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন