যুক্তরাষ্ট্রে প্রকট আকার ধারণ করছে বর্ণবাদ

দৈনিক জনকণ্ঠ
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২২
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকট আকার ধারণ করছে বর্ণবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গির্জায় রোববার (১৫ মে) একাধিক গুলির ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। দেশটির নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের একটি শপিং সেন্টারে একজন শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারী ১০ জনকে হত্যা করার ঠিক একদিন পরই এমন খবর সামনে আসে।

১৮ বছর বয়সী সন্দেহভাজন এক তরুণ ওই হত্যাকাণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করে। এ সময় মোট ১৩ জনকে গুলি করা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনই কৃষ্ণাঙ্গ। বর্ণবাদে উৎসাহী হয়ে এ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে জানান, ঘৃণ্য শ্বেতাঙ্গ উগ্র জাতীয়তাবাদের নামে বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ যেকোনো সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম আমাদের নীতি বিরুদ্ধ।

এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বাফেলো শহরে বন্দুক হামলাকারীকে শ্বেতাঙ্গ উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

২০১৭ সালে লাস ভেগাসের মিউজিক ফেসটিভ্যালে নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ৬৪ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ লোক ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০২১ সালেও আটলান্টায় গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে ছয় নারী ছিলেন এশিয়ার। ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে প্রমাণ হয় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের আধিপত্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত ২০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু এখন তাদের দেশেই ঘাঁটি গেড়েছে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীরা। এতে দেশটিতে বর্ণবাদের সংকট আরও গভীর হয়েছে।

বেইজিং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের সহযোগী অধ্যাপক জু লিয়াং বলেন, আয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গরা বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গদের বন্দুক হামলায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ দুইটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা ও বর্ণবাদী কার্যক্রম প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যার সমাধানে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না। বরং এগুলোকে ব্যবহার করে অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ভোটারদের থেকে সুবিধা নিতে চায় দেশটির সরকার।

অস্ত্রের মালিকানার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরও তারা অস্ত্র সংগ্রহে মনোযোগী। দেশটির জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেক সংগঠন এর মাধ্যমে সুবিধা নিচ্ছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকানারা মনে করেন নির্বাচনী সফলতার জন্য এসব সংগঠনকে দরকার। বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বহু রাজনীতিবিদ স্বার্থান্বেষী মহলের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে মোটিভেশনেও ঘাটতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ফলে প্রতিনিয়ত দেশটির কোথাও না কোথাও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে। মার্কিনিরাও এমন নির্মম ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২১ সালে গড়ে প্রতিদিন একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বন্দুক সহিংসতার শিকার অনেকেই নিম্ন শ্রেণীর মানুষ। স্কুল-কলেজ ও সুপারমার্কেটসহ জনবহুল এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। যদি রাজনীতিবিদ ও বিত্তবানদের ওপর এ হামলা হতো তাহলে হয়তো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া হতো।

যদি জাতিগত সমস্যাটি মার্কিন সমাজের জন্য ক্যান্সার হয় তবে বন্দুক সহিংসতা একে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে সম্পর্ক একটি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ছে।

সূত্র: গ্লোবাল টাইমস

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন